দ্বিতীয়বার এক্সটেনশন পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম

প্রকাশঃ ১০:৫৫ মিঃ, জুন ১৩, ২০১৯
Card image cap

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে হোসনে আরা বেগম, এনডিসি-এর মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে হোসনে আরা বেগম, এনডিসি-এর মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার মেয়াদবৃদ্ধির দৃষ্টান্ত বিরল। আজ (১২ জুন, ২০১৯) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে তিনি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। হোসনে আরা বেগম, এনডিসি গত ২৩ মার্চ, ২০১৭ ইং তারিখে অবসর উত্তর ছুটিতে চলে যান। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সচিব পদমর্যাদায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনরায় নিয়োগ প্রদান করা হয়। আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুক্তির মেয়াদ দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হলো। 

বুধবার দুপুরে প্রজ্ঞাপন জারি হলে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড.খন্দকার আজিজুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি) ফাহমিদা আখতার এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সকল প্রকল্পের পরিচালক ও উপ-পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন। হোসনে আরা বেগমের পুণঃ নিয়োগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

হোসনে আরা বেগম এই মেয়াদবৃদ্ধির জন্য সবার দোয়া ও ভালোবাসার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি আগামী দিনে আরো গতিশীলভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

কর্মজীবনে নিতান্তই সাধারণ এই সরকারী কর্মকর্তা ১৯৮৩ সালের ৩ এপ্রিল ফরিদপুর সদরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ৭৫০টাকা বেতনে প্রথম কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। এসময় বাংলাদেশে প্রথমবারের মত যে ৪০জন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পান, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হোসনে আরা। 

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রথম দিকে ১৯৮৭ সালে টাঙ্গাইল সদরে, ৮৯ সালে জামালপুর সদরে এবং ৯১সালে মুন্সীগঞ্জ সদরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯২ সালের জুন মাসে তথ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে ফিরে আসেন ঢাকায়। চার মাস পর বদলী হন কৃষি মন্ত্রনালয়ে। একই পদে ৯৬ সালের জুন পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে চলে যান নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে ফিরে ১৯৯৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০১০ সালের  ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের এবং ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্র  যুগ্ম-সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্তেও পিএইচডি করতে না পারেননি তিনি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০১০ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি ডিগ্রী ঠিকই অর্জন করেন তিনি। 

হোসনে আরা বেগম এনডিসি ১৯৫৮ সালের ২৬শে মার্চ পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন । ১৯৮৩ সালের ৩ এপ্রিল তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন । আলহাজ্জ মো. আবদুল জব্বার ও মাহামুদা বেগম এর সাত সন্তানের মধ্যে হোসনে আরা বেগম দ্বিতীয় । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টারস অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। 

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭১ বার