জনপ্রিয়তা হারানোয় সোরা বন্ধ করছে ওপেনএআই

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২

জনপ্রিয়তা হারানোয় সোরা বন্ধ করছে ওপেনএআই
ছবি : দ্য ভার্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও তৈরির সেবা ‘সোরা’ শুরুর দিকেই ব্যাপক আলোচনায় আসে। নিজেদের মুখ ব্যবহার করে কল্পনার জগতে ভিডিও বানানোর সুযোগ তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছিল। তবে সেই আগ্রহ বেশিদিন টেকেনি। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেবাটি বন্ধ করে দিয়েছে ওপেনএআই।

সোরা বন্ধ হওয়া ঘোষণার পরপরই নানা জল্পনা শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করেছিলেন, এটি হয়তো ব্যবহারকারীদের চেহারার তথ্য সংগ্রহের কোনো কৌশল ছিল। কারণ, এই সেবায় ব্যবহারকারীদের নিজেদের চেহারা আপলোড করতে হতো। তবে অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে ভিন্ন বাস্তবতা উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, সোরা মূলত একটি ব্যয়বহুল ও লোকসানি প্রকল্পে পরিণত হয়েছিল।

প্রকাশের পর সোরা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংখ্যা কমে পাঁচ লাখের নিচে নেমে আসে। ব্যবহারকারীর এই পতন সেবাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

অন্যদিকে, প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ হচ্ছিল সোরা চালাতে। ভিডিও তৈরি করতে বিপুল কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন হওয়ায় এই ব্যয় বাড়ছিল দ্রুত। প্রতিটি ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকত উচ্চক্ষমতার চিপের ব্যবহার, যা খরচকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও করপোরেট গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। তাদের কোড সহায়ক সেবা ‘ক্লদ কোড’ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এতে ওপেনএআইয়ের মূল আয়ের খাতেও চাপ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সোরা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে কম্পিউটিং সম্পদ অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়, যা প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করবে।

সিদ্ধান্তটি কতটা আকস্মিক ছিল, তা বোঝা যায় একটি বড় ঘটনার মাধ্যমে। বিনোদন জগতের প্রতিষ্ঠান ডিজনি এই প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সোরা বন্ধের খবর তারা জানতে পারে জনসমক্ষে ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টা আগে। ফলে সেই বিনিয়োগ পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে যায়।

প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে সোরা বন্ধ হওয়ার ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। নতুন প্রযুক্তি যতই আকর্ষণীয় হোক, ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন।

সূত্র : টেকক্রাঞ্চ

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন