এ প্রসঙ্গে লুনা শামসুদ্দোহা বলেন- বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীরা আসবেন, তারা অবদান রাখবেন এমনটি বোধ হয় এক সময় কারো ভাবনাতেই ছিল না। কিন্তু সেই বৃত্ত ভেঙে অনেক আগেই নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসা করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি করে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটি (বিডাব্লিউআইটি) এর সভাপতি এবং দেশের  খ্যাতনামা সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা  সম্প্রতি নিযুক্ত হয়েছেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে। সুপরিচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কারণে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস অ্যান্ড ইনোভেটরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে তিনি সুইস ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (সিমসা) পুরস্কার লাভ করেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে এমন প্রশ্নের উত্তরে লুনা শামসুদ্দোহা বলেন- আমি সেই ১৯৯৪ সাল থেকে শিখে আসছি, এখনও শিখছি। এখন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথেও প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকছি। আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বেসিসের কাজে লাগাতে চাই। আমি যেভাবে নিজের কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি সেভাবে বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বেসিস যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে। আমি বেসিসের সেই ভিত্তি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ফোকাস ইনিশিয়েটিভ ও যথাযথ রিসার্চ করে সেটা যদি সবার সাথে শেয়ার করা যায় তাহলে সকলেই উপকৃত হবে। তাই এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য হবে। এছাড়া সচিবালয়কে শক্তিশালীকরণেরও উদ্যোগ নেয়া হবে। এটি অনেকটা পরিবারকে সামলানোর মতো। তাই আমার নিজের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে সামলেছি বা এগিয়ে নিয়েছি ঠিক সেভাবেই বেসিস সচিবালয়কে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমার আরেকটি লক্ষ্য হলো, বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য কমানো। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করবে সেটা সমস্যা নয়, বরং আমরা স্বাগত জানাই। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখবো। তাই বলে তাদের আধিক্য বা সব কাজ তারা করবে এটা মানা যায় না। আমরা লোকাল সফটওয়্যার তৈরি করে বিদেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছি। সব জায়গায় টেকনোলজি এক, আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা রয়েছে, তাহলে আমাদের দেশে কেনো দেশি কোম্পানিকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে? এই বিষয়টাতেও আমার ফোকাস থাকবে। আমাদের প্রশিক্ষণও বিদেশিদের দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে বিদেশি পরামর্শকারী রাখবো, তাই বলে দেশের প্রশিক্ষণ বিদেশিদের দিতে চাই না। এই বিষয়েও কাজ করতে চাই।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস এর (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমান। তিনি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের (২০১৬-২০১৮) সহ সভাপতি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়ে সহ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর আগে মাত্র দুইজন কর্মী নিয়ে ফারহানার ইউওয়াই সিস্টেমসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। মাত্র অল্প সময়ে  কাজের যোগ্যতায় ক্রেতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে দেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধু আউটসোর্সিং নির্ভর প্রতিষ্ঠানেই নির্ভার থাকেননি, ধীরে ধীরে পরিধি বাড়িয়েছেন ব্যবসার। কাজ করেছেন সামাজিক উন্নয়নেও। আর তাতে পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থেকে পেয়েছেন ‘উইমেন এক্সপোর্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেও ‘সেরা নারী উদ্যোক্তার’ স্বীকৃতি পান ফারহানা এ রহমান। এছাড়াও দেশে এবং বিদেশে আরও নানান পুরস্কার পেয়েছেন ফারহানা এ রহমান।

বেসিসের বর্তমান নির্বাহী কমিটিতেও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শুধু এই কমিটিতে নয়, বেসিসের একাধিক পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী এবং তিনিই বেসিস কার্যকরী কমিটির প্রথম বিজিত নারী সদস্য।  তিনি মনে করেন, সফল ব্যবসায়ী হলেই হয় না। সংগঠন চালানো কিংবা এতে যুক্ত থেকে নিয়মিত কাজ করতে চাইলে আগ্রহ থাকাটা খুব বেশি প্রয়োজন।

এবারের নির্বাচনে নিজের ইশতেহার সর্ম্পকে ফারহানা এ রহমান বলেন- তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছি বেশি। এক, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানীর জন্য নতুন বাজার খোঁজা। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা নয়; পার্শ্ববর্তী দেশ কিংবা যেসব দেশ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হতে চাচ্ছে সেসব দেশেও বাংলাদেশের আইটি পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। যেমন হতে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান কিংবা জাপানও। জাপানের কথা বলছি, কারণ দেশটির বাজার অনেক বড়। এটি আমাদের ধরার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য বায়িং হাউস বা মার্কেটিং এজেন্সীর একটা মডেল তৈরি করতে চাই। ঐ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশে গড়ে উঠলে সেসবের মাধ্যমে সহজেই পণ্য রপ্তানী করা যাবে। দ্বিতীয়ত, আইটি খাতে আমাদের বর্তমান অবস্থা আসলে কী? সেটা খুঁজে বের করতে একটি জরিপ চালানো হবে, যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির তথ্য উঠে আসে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দিনদিন প্রযুক্তি ট্রেন্ড এর পরিবর্তন হচ্ছে। আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংয়ের যুগ শুরু হচ্ছে। তাই যারা এখানে কাজ করছেন তাঁরা যেন এসব প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, এজন্য কৌশল খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া, ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ে জোর দিতে চাই। এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে চাই।

তিনি আরো বলেন- ২০১৬-১৮ কার্যনির্বাহী কমিটিতে আমরা সফটওয়্যার শিল্পখাতের জন্য ১০% প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। সেই সাথে সফটওয়্যার শিল্পখাতের ক্ষদ্র-মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীন রেডিনেস বা সঠিক প্রস্তুতিসহ রপ্তানি যোগ্যকরণে কাজ শুরু করেছি। সেই সাথে আমরা ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনাও তৈরী করেছি যাতে বাংলাদেশ সফটওয়্যার শিল্পের অভ্যন্তরীন বাজার দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়াও সুযোগ পেলে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাজ করার ইচ্ছা আছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইপিআর নিয়ে যুগোপযোগী কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করার। আরেকটি বিষয় নিয়ে আমি কাজ করতে চাই যা হলো সরকারী কার্যালয়গুলোর অটোমেশনে, বিশেষ করে ভ্যাট ইস্যুতে। ভ্যাটের বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় হলো নতুন নতুন প্রযুক্তিতে যারা শিক্ষা গ্রহণ করছে বা দক্ষতা অর্জন করছে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা।

সবশেষে বলব সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ। আমাদের দেশীয় বাজারে রপ্তানিসহ অন্যান্য বিষয়ে রয়েছে তথ্য ও উপাত্ত ভিত্তিক বিভ্রান্তি, তাই এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই আমি এবং সকলের সহযোগীতায় একাজগুলো করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।    

বেসিসের তরুন নেত্রী এবং স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের ডিরেক্টর ও সিওও রেজওয়ানা খান বলেন-- আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে তারা দেশের পাশাপাশি বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়ন পায়।  আমি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই তা হলো আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নতপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে তোলা। আর এইটা  বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) থেকে করা সম্ভব। কিছুটা হতাশ হয়ে এই সফল নারী উদ্যোক্তা বলেন,  আমি বাইরের অনেক কাজ করি। তবে কষ্ট লাগে যখন দেখি একই প্রজেক্টে আমাদের দেশের মানুষ যে মূল্যায়ন পাচ্ছে বিদেশের অন্যান্যরা এর চেয়ে বেশি মূল্যায়ন পাচ্ছে। এর কারণ হল ঐ প্রজেক্টে অংশ নেয়া বাইরের ব্যক্তিটিকে ট্রেইনআপ করে পাঠানো হয়েছে। এই কারণেই সে এগিয়ে গেছে। ফলে আমাদের বেসিস থেকে এটি করার একটি চিন্তা মাথায় আছে আমার। এতে করে প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে যাবে। আর্থিক ভাবে আমরা লাভবান হবো।

বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডব্লিউআইটি) সভাপতি ও সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়ে এবারের বেসিস নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে লড়ছেন এই  নারী উদ্যোক্তা। নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই বছর মেয়াদের মধ্যে অ্যাডভান্স টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে পারে  এমন একটি দল গঠন করতে চান তিনি।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন-নির্বাচন নিয়ে আমি ইতিবাচক। আমি আসব ক্ষণিকের জন্য, ২ বছর  কিন্তু খুবই কম সময় । এই ২বছরে আমি ২টা বা ৩টা টার্গেট নিয়ে আসতে চাই এবং আমি ঐ টার্গেটকেই সামলাতে চাই কারণ আমি এত কিছুর মধ্যে যেতে পারব না,  আমার পক্ষে সম্ভব হবে না এত কিছু করার, বেশি কিছু নিয়ে কাজ করতে গেলে কোনো কিছুই হয় না । এই নারী উদ্যোক্তা বলেন-আমি বেসিস সদস্যদের জন্য হেল্পডেস্ক তৈরি করে চাই, যাতে করে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোন সমস্যা হলে এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত এবং সঠিক ভাবে তাদের সমস্যাটা সমাধান করা যায়।

 এ ছাড়া আমি একেবারেই টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের। আমি পড়াশুনা করার সময়ই চিন্তা করেছিলাম আমি ব্যবসা করব এবং তা টেকনোলজি লাইনেই করব। আমার টার্গেট এটিই ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে যে ১৪ বছর অনেক সময়। আমি অনেক বাঁধা পেড়িয়ে এতদূর এসেছি, কিছু এস্টাবলিশ করতে পেরেছি। অর্থাৎ আমার কোম্পানির এখন নিজে চলতে পারার মতো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আমি আমার দিক থেকে বেসিসকে দুইবছর সময় দিতে পারার ক্ষমতা রয়েছে। আমার চিন্তাভাবনা হচ্ছে পরেরবার নির্বাচনে না আসলেও এই দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলে বেসিসকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি যেন।'

আমরা চাই জয়ী হয়ে আসুক আমাদের তিন নেত্রীর প্রত্যেকেই, কেননা যোগ্যতা প্রমাণে সীমানা ছাড়িয়ে তারা আজ তথ্য প্রযুক্তি খাতে কাজ করা অনেকের জন্যই অনুকরনীয় এবং অনুসরনীয়।

" >

বেসিস এর কার্যনির্বাহী কমিটির ৯টি পদের বিপরীতে নির্বাচন করছেন ৩ জন নারী সদস্য

প্রকাশঃ ০৫:৫৭ মিঃ, মার্চ ২৯, ২০১৮
Card image cap

সফটওয়্যার উদ্যোক্তা হিসেবে  দেশে নারীর সংখ্যা কম। বেসিসে নারী সদস্যের সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। এবারই সবচেয়ে বেশী নারী অংশগ্রহন করছেন নির্বাচনে। এর আগের নির্বাচন গুলোর মধ্যে নারীরা অংশগ্রহন করেছেন দুই বার এবং দুইবার-ই সংখ্যা ছিল দুইজন করে। এবার দুই প্যানেল হতে নির্বাচন করছেন তিনজন।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

তিনজনই তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে  খাতে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ । আর সেজন্যই হয়তো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিস নির্বাচনে এবার প্যানেল ঘোষণা করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ফারহানা এ রহমান, রেজওয়ানা খান এবং লুনা শামসুদ্দোহা। প্যানেল  ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’ এর পক্ষে নির্বাচন করছেন রেজওয়ানা খান এবং লুনা শামসুদ্দোহা। আর টিম হরায়জন থেকে ফারহানা এ রহমান। এই ৩ জনের সবাই জেনারেল ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনে জয়লাভ করলে বেসিসের হয়ে তথ্য প্রযুক্তিখাতের উন্নয়নে কাজ  করতে চান তারা, সেসাথে কাজ করবেন  তথ্যপ্রযুক্তিতে নারী অংশগ্রহনের উন্নয়নে।

এ প্রসঙ্গে লুনা শামসুদ্দোহা বলেন- বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীরা আসবেন, তারা অবদান রাখবেন এমনটি বোধ হয় এক সময় কারো ভাবনাতেই ছিল না। কিন্তু সেই বৃত্ত ভেঙে অনেক আগেই নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসা করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এক ধরনের পেশাদারিত্ব তৈরি করে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটি (বিডাব্লিউআইটি) এর সভাপতি এবং দেশের  খ্যাতনামা সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা  সম্প্রতি নিযুক্ত হয়েছেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে। সুপরিচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কারণে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস অ্যান্ড ইনোভেটরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে তিনি সুইস ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (সিমসা) পুরস্কার লাভ করেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে এমন প্রশ্নের উত্তরে লুনা শামসুদ্দোহা বলেন- আমি সেই ১৯৯৪ সাল থেকে শিখে আসছি, এখনও শিখছি। এখন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথেও প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকছি। আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বেসিসের কাজে লাগাতে চাই। আমি যেভাবে নিজের কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি সেভাবে বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বেসিস যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে। আমি বেসিসের সেই ভিত্তি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ফোকাস ইনিশিয়েটিভ ও যথাযথ রিসার্চ করে সেটা যদি সবার সাথে শেয়ার করা যায় তাহলে সকলেই উপকৃত হবে। তাই এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য হবে। এছাড়া সচিবালয়কে শক্তিশালীকরণেরও উদ্যোগ নেয়া হবে। এটি অনেকটা পরিবারকে সামলানোর মতো। তাই আমার নিজের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে সামলেছি বা এগিয়ে নিয়েছি ঠিক সেভাবেই বেসিস সচিবালয়কে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমার আরেকটি লক্ষ্য হলো, বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য কমানো। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করবে সেটা সমস্যা নয়, বরং আমরা স্বাগত জানাই। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখবো। তাই বলে তাদের আধিক্য বা সব কাজ তারা করবে এটা মানা যায় না। আমরা লোকাল সফটওয়্যার তৈরি করে বিদেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছি। সব জায়গায় টেকনোলজি এক, আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা রয়েছে, তাহলে আমাদের দেশে কেনো দেশি কোম্পানিকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে? এই বিষয়টাতেও আমার ফোকাস থাকবে। আমাদের প্রশিক্ষণও বিদেশিদের দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে বিদেশি পরামর্শকারী রাখবো, তাই বলে দেশের প্রশিক্ষণ বিদেশিদের দিতে চাই না। এই বিষয়েও কাজ করতে চাই।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস এর (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমান। তিনি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের (২০১৬-২০১৮) সহ সভাপতি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়ে সহ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর আগে মাত্র দুইজন কর্মী নিয়ে ফারহানার ইউওয়াই সিস্টেমসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। মাত্র অল্প সময়ে  কাজের যোগ্যতায় ক্রেতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে দেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধু আউটসোর্সিং নির্ভর প্রতিষ্ঠানেই নির্ভার থাকেননি, ধীরে ধীরে পরিধি বাড়িয়েছেন ব্যবসার। কাজ করেছেন সামাজিক উন্নয়নেও। আর তাতে পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থেকে পেয়েছেন ‘উইমেন এক্সপোর্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেও ‘সেরা নারী উদ্যোক্তার’ স্বীকৃতি পান ফারহানা এ রহমান। এছাড়াও দেশে এবং বিদেশে আরও নানান পুরস্কার পেয়েছেন ফারহানা এ রহমান।

বেসিসের বর্তমান নির্বাহী কমিটিতেও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শুধু এই কমিটিতে নয়, বেসিসের একাধিক পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী এবং তিনিই বেসিস কার্যকরী কমিটির প্রথম বিজিত নারী সদস্য।  তিনি মনে করেন, সফল ব্যবসায়ী হলেই হয় না। সংগঠন চালানো কিংবা এতে যুক্ত থেকে নিয়মিত কাজ করতে চাইলে আগ্রহ থাকাটা খুব বেশি প্রয়োজন।

এবারের নির্বাচনে নিজের ইশতেহার সর্ম্পকে ফারহানা এ রহমান বলেন- তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছি বেশি। এক, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানীর জন্য নতুন বাজার খোঁজা। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা নয়; পার্শ্ববর্তী দেশ কিংবা যেসব দেশ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হতে চাচ্ছে সেসব দেশেও বাংলাদেশের আইটি পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। যেমন হতে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান কিংবা জাপানও। জাপানের কথা বলছি, কারণ দেশটির বাজার অনেক বড়। এটি আমাদের ধরার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য বায়িং হাউস বা মার্কেটিং এজেন্সীর একটা মডেল তৈরি করতে চাই। ঐ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশে গড়ে উঠলে সেসবের মাধ্যমে সহজেই পণ্য রপ্তানী করা যাবে। দ্বিতীয়ত, আইটি খাতে আমাদের বর্তমান অবস্থা আসলে কী? সেটা খুঁজে বের করতে একটি জরিপ চালানো হবে, যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির তথ্য উঠে আসে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দিনদিন প্রযুক্তি ট্রেন্ড এর পরিবর্তন হচ্ছে। আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংয়ের যুগ শুরু হচ্ছে। তাই যারা এখানে কাজ করছেন তাঁরা যেন এসব প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, এজন্য কৌশল খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া, ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ে জোর দিতে চাই। এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে চাই।

তিনি আরো বলেন- ২০১৬-১৮ কার্যনির্বাহী কমিটিতে আমরা সফটওয়্যার শিল্পখাতের জন্য ১০% প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। সেই সাথে সফটওয়্যার শিল্পখাতের ক্ষদ্র-মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীন রেডিনেস বা সঠিক প্রস্তুতিসহ রপ্তানি যোগ্যকরণে কাজ শুরু করেছি। সেই সাথে আমরা ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনাও তৈরী করেছি যাতে বাংলাদেশ সফটওয়্যার শিল্পের অভ্যন্তরীন বাজার দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়াও সুযোগ পেলে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাজ করার ইচ্ছা আছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইপিআর নিয়ে যুগোপযোগী কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করার। আরেকটি বিষয় নিয়ে আমি কাজ করতে চাই যা হলো সরকারী কার্যালয়গুলোর অটোমেশনে, বিশেষ করে ভ্যাট ইস্যুতে। ভ্যাটের বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় হলো নতুন নতুন প্রযুক্তিতে যারা শিক্ষা গ্রহণ করছে বা দক্ষতা অর্জন করছে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা।

সবশেষে বলব সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ। আমাদের দেশীয় বাজারে রপ্তানিসহ অন্যান্য বিষয়ে রয়েছে তথ্য ও উপাত্ত ভিত্তিক বিভ্রান্তি, তাই এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই আমি এবং সকলের সহযোগীতায় একাজগুলো করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।    

বেসিসের তরুন নেত্রী এবং স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের ডিরেক্টর ও সিওও রেজওয়ানা খান বলেন-- আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে তারা দেশের পাশাপাশি বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়ন পায়।  আমি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই তা হলো আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নতপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করে তোলা। আর এইটা  বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) থেকে করা সম্ভব। কিছুটা হতাশ হয়ে এই সফল নারী উদ্যোক্তা বলেন,  আমি বাইরের অনেক কাজ করি। তবে কষ্ট লাগে যখন দেখি একই প্রজেক্টে আমাদের দেশের মানুষ যে মূল্যায়ন পাচ্ছে বিদেশের অন্যান্যরা এর চেয়ে বেশি মূল্যায়ন পাচ্ছে। এর কারণ হল ঐ প্রজেক্টে অংশ নেয়া বাইরের ব্যক্তিটিকে ট্রেইনআপ করে পাঠানো হয়েছে। এই কারণেই সে এগিয়ে গেছে। ফলে আমাদের বেসিস থেকে এটি করার একটি চিন্তা মাথায় আছে আমার। এতে করে প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে যাবে। আর্থিক ভাবে আমরা লাভবান হবো।

বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডব্লিউআইটি) সভাপতি ও সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়ে এবারের বেসিস নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে লড়ছেন এই  নারী উদ্যোক্তা। নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই বছর মেয়াদের মধ্যে অ্যাডভান্স টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে পারে  এমন একটি দল গঠন করতে চান তিনি।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন-নির্বাচন নিয়ে আমি ইতিবাচক। আমি আসব ক্ষণিকের জন্য, ২ বছর  কিন্তু খুবই কম সময় । এই ২বছরে আমি ২টা বা ৩টা টার্গেট নিয়ে আসতে চাই এবং আমি ঐ টার্গেটকেই সামলাতে চাই কারণ আমি এত কিছুর মধ্যে যেতে পারব না,  আমার পক্ষে সম্ভব হবে না এত কিছু করার, বেশি কিছু নিয়ে কাজ করতে গেলে কোনো কিছুই হয় না । এই নারী উদ্যোক্তা বলেন-আমি বেসিস সদস্যদের জন্য হেল্পডেস্ক তৈরি করে চাই, যাতে করে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোন সমস্যা হলে এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত এবং সঠিক ভাবে তাদের সমস্যাটা সমাধান করা যায়।

 এ ছাড়া আমি একেবারেই টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের। আমি পড়াশুনা করার সময়ই চিন্তা করেছিলাম আমি ব্যবসা করব এবং তা টেকনোলজি লাইনেই করব। আমার টার্গেট এটিই ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে যে ১৪ বছর অনেক সময়। আমি অনেক বাঁধা পেড়িয়ে এতদূর এসেছি, কিছু এস্টাবলিশ করতে পেরেছি। অর্থাৎ আমার কোম্পানির এখন নিজে চলতে পারার মতো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আমি আমার দিক থেকে বেসিসকে দুইবছর সময় দিতে পারার ক্ষমতা রয়েছে। আমার চিন্তাভাবনা হচ্ছে পরেরবার নির্বাচনে না আসলেও এই দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলে বেসিসকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি যেন।'

আমরা চাই জয়ী হয়ে আসুক আমাদের তিন নেত্রীর প্রত্যেকেই, কেননা যোগ্যতা প্রমাণে সীমানা ছাড়িয়ে তারা আজ তথ্য প্রযুক্তি খাতে কাজ করা অনেকের জন্যই অনুকরনীয় এবং অনুসরনীয়।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৩৩৯ বার


মুখোমুখি

Card image cap
‘বাংলাদেশকেই হিটাচি পণ্যের বাজার হিসেবে অধিক সম্ভাবনাময় দেশ বলে মনে হয়’ - চেন টেক ব্যঙ্ক

হিটাচি হোম ইলেকট্রনিক্স এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক প্রকৃতঅর্থে একজন বয়োজষ্ঠ্য, কিন্তু তার জ্ঞানের পরিধি এবং অক্লান্ত পরিশ্রম তার বয়সকেও হার মানিয়ে দেয়। আর সে কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন এক অদম্য যুবকের সমতুল্য। তার আধুনিক ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এশিয় অঞ্চলে হিটাচি পণ্য ও সেবার  বাজারের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিটাচি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ইউনিক বিজনেস সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাসিক টেকওয়ার্ল্ড পত্রিকার প্রতিনিধির জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক এর সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ হয়, যার উল্লেখযোগ্য অংশটুকু এখানে তুলে ধরা হলোঃ

প্রশ্নঃ সাধারণ