জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলন ২০১৮ অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ১১:০৬ মিঃ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

এটুআই এবং আইএলও এর যৌথ আয়োজনে আজ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ কক্সবাজারের হোয়াইট অর্কিড হোটেলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ, শিল্প-প্রতিষ্ঠান এর মালিক/প্রতিনিধি, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলন ২০১৮। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের এক অঞ্চলের ভাল দিক গুলো অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া, চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা করা, কারখানার মালিকদের এ্যাপ্রেনটিসশিপ এ উদ্বুদ্ধ করা এবং এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামকে টেকশই করা। আইসিটি বিভাগ, ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড এর সহায়তায় এটুআই বর্তমানে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ৩৫০টি শিল্প-কারখানায় চাহিদাভিত্তিক ট্রেডে ১৫০০০ বেকার যুবক-যুব মহিলাকে এ্যাপ্রেনটিস হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো: সামছুজ্জামান ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর মহাপরিচালক মোঃ সেলিম রেজা, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) এর মহাপরিচালক ড. মোঃ মফিজুর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক মোঃ শহিদুজ্জামান, সমাজসেবা অধিদপ্তর এর পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এর পরিচালক (পিআইইউ) মো: অহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। উক্ত সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন এটুআই প্রোগ্রাম এর প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

এ সম্মেলনে মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম এ উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা দূরীভূতকরণ ও টেকসইকরণ নির্ধারন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সারা দেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ বা এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের সম্প্রসারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়াও সম্মেলনে ইনফরমাল ও ফরমাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের অভিজ্ঞতা ও কেস স্টাডিও শেয়ার করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর মহাপরিদর্শক মোঃ সামছুজ্জামান ভূইয়া বলেন, “এ্যাপ্রেনটিসশিপ ধারণাটি বাংলাদেশে নতুন হলেও এর প্রায়োগিক দিকটি সারাদেশে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে এটুআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সঠিক আইন মেনে সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করলে তা আরও বেশি সফলতার মুখ দেখবে”।

বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন “এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ায় বেকার যুবসমাজের মধ্যে যেমন দক্ষতা বৃদ্ধির আগ্রহ তৈরি হয়েছে তেমনি ফরমাল ও ইনফরমাল সেক্টরের সুপারভাইজর ও কো-অর্ডিনেটরদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিষয়েও সচেতনতা তৈরি হয়েছে”  

সভাপ্রধানের বক্তব্যে এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম সফলভাবে পরিচালনা করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একযোগে কাজ করতে হবে”।

সম্মেলনে এ্যাপ্রেনটিসশিপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক’ এর ১২ তম নেটওয়ার্ক হিসেবে গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক -বাংলাদেশ (GAN Bangladesh) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৭ সালে এটুআই এর সাথে এ নেটওয়ার্ক এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ নেটওয়ার্ক এর আওতায় সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম সফল ও সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিল্প-প্রতিষথান, দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ একযোগে কাজ করবে।

উল্লেখ্য এটুআই এর উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে এ্যাপ্রেনটিসশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়। এটুআই বর্তমানে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ৩৫০টি শিল্প-কারখানায় এগ্রো-ফুড, ফার্নিচার, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি, কন্সট্রাকশন, লেদার ও ফুটওয়্যার সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে বিভিন্ন চাহিদাভিত্তিক ট্রেডে ১৫০০০ বেকার যুবক-যুব মহিলাকে এ্যাপ্রেনটিস হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে, যা ২০১৮ এর শেষ নাগাদ ৩০০০০ এ উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইনফরমাল সেক্টরে ১৩০টিরও বেশি উপজেলায় ১২০০০ এরও বেশি এ্যাপ্রেনটিস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মে নিযুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম এর ম্যানেজমেন্ট, মনিটরিং ও মেন্টরিং এর লক্ষ্যে এটুআই ন্যাশনাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (http://www.skills.gov.bd/apprenticeship/) তৈরি করেছে যা এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের সকল স্টেকহোল্ডারকে সেবা প্রদানের একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এ্যাপ্রেনটিসশীপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রশিক্ষিত যুব/কর্মীরা বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিযুক্ত হয়। এর ফলে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষ লোক পায় ফলে সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরন ও মাথাপিছু রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পায়।

সম্মেলনে এটুআই- এর পলিসি স্পেশালিস্ট আসাদ-উজ-জামান; কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর; জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো; কক্সবাজার জেলা প্রশাসন; বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ; কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ; বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড; সমাজসেবা অধিদপ্তর এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৯ বার


মুখোমুখি

Card image cap
‘বাংলাদেশকেই হিটাচি পণ্যের বাজার হিসেবে অধিক সম্ভাবনাময় দেশ বলে মনে হয়’ - চেন টেক ব্যঙ্ক

হিটাচি হোম ইলেকট্রনিক্স এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক প্রকৃতঅর্থে একজন বয়োজষ্ঠ্য, কিন্তু তার জ্ঞানের পরিধি এবং অক্লান্ত পরিশ্রম তার বয়সকেও হার মানিয়ে দেয়। আর সে কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন এক অদম্য যুবকের সমতুল্য। তার আধুনিক ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এশিয় অঞ্চলে হিটাচি পণ্য ও সেবার  বাজারের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিটাচি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ইউনিক বিজনেস সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাসিক টেকওয়ার্ল্ড পত্রিকার প্রতিনিধির জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক এর সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ হয়, যার উল্লেখযোগ্য অংশটুকু এখানে তুলে ধরা হলোঃ

প্রশ্নঃ সাধারণ